Financial help for cancer patients

 আপনার মা-বাবা, পরিবার কিংবা আত্মীয়-স্বজনের কেউ যদি ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে থাকেন, কিডনী সমস্যায় ডায়ালাইসিস নিতে হচ্ছে অথবা লিভার সিরোসিস রোগে ভুগছেন। তাদের টাকার জন্য চিকিৎসা করতে পারছেন না, কিছু টাকা পেলে চিকিৎসা করাতে পারবেন-

উপরে যেসব রোগের কথা বলেছি সেসব রোগীদের চিকিৎসার জন্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সমাজকল্যান অধিদপ্তর থেকে সরকারিভাবে এককালীন ৫০ হাজার টাকা সাহায্য পেতে পারেন।



★ কারা এই সহায়তা পাবেন


১) ক্যান্সার আক্রান্ত রোগী

২) কিডনী রোগে আক্রান্ত 

৩) লিভার সিরোসিস 


★ সহায়তা পেতে কিভাবে আবেদন করতে হবে, বিস্তারিত বলে দিচ্ছি।


পোস্টের নিচের অংশে দেওয়া লিংকে গিয়ে একটি PDF ফাইল দেওয়া আছে সেটা ডাউনলোড করবেন এবং নিচের নির্দেশিকা মেনে নির্ভুলভাবে পূরন করবেন।


তারপর PDF ফাইলটি ওপেন করে ৬ টি পৃষ্ঠা দেখতে পারবেন। প্রথমেই সেখানের ১ম পৃষ্ঠার দিক নির্দেশনাগুলো ভালোভাবে পড়ে নিবেন। তারপর বাকি ৫ টা পৃষ্ঠা ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে নিবেন। 

তারপর রোগীর নাম, ঠিকানা, বয়স, জাতীয় পরিচয়পত্র নাম্বার ও অন্যান্য সকল তথ্য পূরণের পর, পরিশিষ্ট-২ (ক) পৃষ্ঠাটি ডাক্তার পূরন করবে।

ধরুন আপনি কিডনী রোগী, আপনি একজন যে কিডনী বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে চিকিৎসাধীন আছে অথবা আপনার রোগ বিষয়ে অবগত ডাক্তার দ্বারা আপনি পরিশিষ্ট-২ (ক) পেইজটি পূরন করবেন। সেখানে ডাক্তার আপনার নাম, আপনার রোগের ধরন লিখে দিয়ে নিজের একটি সীল দিয়ে দিবে, ডাক্তারকে অবশ্যই এই সহায়তার বিষয়ে আগে বিস্তারিত জানিয়ে নিবেন।  


তারপর পরিশিষ্ট-২ (খ) ফরমটিতে লিখে দিবেন যে আপনি পূর্বে কিডনি, লিভার, ক্যান্সার রোগের জন্য সরকার থেকে কোন সহায়তা নেননি।


★ PDF ফাইলের ১ম পৃষ্ঠার নির্দেশনা দেখে দেখে ফরমটি সঠিকভাবে পূরন করার পর সেটাকে ১ম গ্যাজেটেড কর্মকর্তার সত্যায়িত সীল নিয়ে সেটা জমা দিবেন আপনার জেলা অথবা উপজেলা সমাজকল্যাণ অফিসে।


★ অবশ্যই মনে রাখবেন, রোগীর নিজ নামে ব্যাংক একাউন্ট থাকতে হবে, রোগী নিজ নাম বাদে অন্যকারো একাউন্ট থেকে এই সহায়তার টাকা তোলা যাবে না।


যথাযথভাবে জমা দেয়ার সকল প্রক্রিয়া শেষে টাকা পেতে আনুমানিক ৩-৪ মাসের মত সময় লাগতে পারে। 


*বিদ্রঃ অনলাইনে আবেদন না করে, পিডিএফ ডাউনলোড করে ফরম পূরণ করে নিজ জেলা বা উপজেলায় আবেদন পত্র জমা দিলে বেশি দ্রুত রেসপন্স পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।


ছবি : ব্যাংক চেকটি এক ভাই তার মায়ের চিকিৎসা সহায়তার জন্য আবেদন করে পেয়েছিলেন। উনার পেতে সময় লেগেছিল আনুমানিক ৪ মাস।


#আবেদন_ফরম_লিংক:

http://www.dss.gov.bd/site/forms/2ed23ede-dfc7-45c4-a70e-

http://www.welfaregrant.gov.bd/

অনলাইন আবেদন লিংক ঃ http://www.welfaregrant.gov.bd/PubApplication/Application


    নিম্নবর্ণিত নির্দেশিকা ভালভাবে পড়ুন

ক.আবেদনকারী/রোগীকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে; সর্বোচ্চ দুস্থ ব্যক্তিকে অগ্রাধিকার প্রদান করা হবে; আর্থিক অবস্থার ক্ষেত্রে: শিশু, নিঃস্ব, উদ্বাস্তু ও ভূমিহীনকে ক্রমানুসারে অগ্রাধিকার দেয়া হবে; সামাজিক অবস্থার ক্ষেত্রে: বয়োজ্যেষ্ঠ, বিধবা, তালাকপ্রাপ্তা, বিপত্নীক, নিঃসস্তান, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন ব্যক্তিদেরকে ক্রমানুসারে অগ্রাধিকার দেয়া হবে; প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ভূমিহীন প্রার্থীকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে; এ ক্ষেত্রে বসতবাড়ী ব্যতীত কোন ব্যক্তির জমির পরিমাণ ০.৫০ একর বা তার কম হলে তিনি ভূমিহীন বলে গণ্য হবেন।

খ.আবেদনের সাথে নিম্নবর্ণিত প্রত্যয়ন পত্র, ব্যবস্থাপত্র/টেস্ট রিপোর্ট ও তথ্যাদি সংযুক্ত করে পূর্ণাঙ্গ আবেদন অবশ্যই সংশ্লিষ্ট জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে দাখিল করতে হবে:

১.নির্ধারিত ফরমে রেজিস্টার্ড ডাক্তার কর্তৃক প্রদেয় সংশ্লিষ্ট রোগের প্রত্যয়ন পত্রের মূলকপি সংযুক্ত করতে হবে;

২.ক্যান্সার,কিডনী,লিভার সিরোসিস,স্ট্রোকে প্যারালাইজড ও জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীকে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট রোগের বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের নিম্নবর্ণিত ব্যবস্থাপত্র ও টেস্ট রিপোর্ট আবেদনের সাথে জমা দিতে হবে:

২.১.ক্যান্সার রোগের ক্ষেত্রে Histopathology /Cytopahtology/Bone Marrow Report বা অন্যান্য টেস্ট রিপোর্ট;

২.২.কিডনী রোগের ক্ষেত্রে Acute Renal Failure অথবা Chronic Renal Failure এ আক্রান্ত ডায়ালাইসিস সেবা নিচ্ছে, কিডনী প্রতিস্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে অথবা কিডনী প্রতিস্থাপন করেছে এমন রোগীদেরকে প্রযোজ্য রিপোর্ট এবং রক্তে ইউরিয়া ও ক্রিয়েটিনের মাত্রার রিপোর্ট;

২.৩.লিভার সিরোসিস রোগের ক্ষেত্রে লিভারের আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট;

২.৪.ষ্ট্রোকে প্যারালাইজড আক্রান্ত রোগীকে নিউরোলজিষ্ট কর্তৃক প্রত্যায়িত হতে হবে এবং MRI/CT Scan Report রিপোর্ট;

২.৫.জন্মগত হৃদরোগের ক্ষেত্রে Echo Cardiogram রিপোর্ট;

৩.রোগীর জাতীয় পরিচয়পত্র/জন্ম সনদের ১ম শ্রেণীর গেজেটেড অফিসার কর্তৃক সত্যায়িত ফটোকপি এবং সদ্য তোলা ৩কপি সত্যায়িত ফটো;

৪.রোগীর বয়স আবেদনের তারিখে ১৮ বছরের কম/ মূমূর্ষ অবস্থায় থাকলে তার বৈধ অভিভাবক আবেদন করতে পারবেন, সেক্ষেত্রে আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্রের ১ম শ্রেণীর গেজেটেড অফিসার কর্তৃক সত্যায়িত ফটোকপি; এবং সদ্য তোলা ৩কপি সত্যায়িত ফটো।

গ.কম্পিউটারে Acrobat reader না থাকলে তা ডাউনলোড করে ইন্সটল করে নিন।

ঘ.আবেদন শেষে প্রিন্টের ব্যবস্থা থাকতে হবে।

Post a Comment

0 Comments